কলকাতা পুরভোটের সম্ভাব্য সময়কে সামনে রেখে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করল বিজেপি। বুথ সংগঠন শক্তিশালী করা, সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই ও প্রচারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা।
কলকাতা পুরভোটের প্রস্তুতিতে বিজেপির উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
কলকাতা, সিটি নিউজ বাংলা, স্টেট ডেস্ক : কলকাতা পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৎপরতা বাড়াল রাজ্য বিজেপি। সম্ভাব্য পুরভোটের আগে দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানো, সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই এবং নির্বাচনী প্রচারের কৌশল নির্ধারণ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করল বিজেপি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় স্তরে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, চলতি বছরের নভেম্বর মাসে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হতে পারে। যদিও নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি। তার আগেই নিজেদের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। ভোটের সম্ভাব্য সময়কে মাথায় রেখে উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার সংগঠন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।
বৈঠকে শীর্ষ নেতৃত্ব
পুরভোটের প্রস্তুতি নিয়ে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল, রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং অমিতাভ চক্রবর্তী। এছাড়াও কলকাতার বিভিন্ন এলাকার নির্বাচিত বিধায়ক এবং স্থানীয় স্তরের গুরুত্বপূর্ণ নেতারাও বৈঠকে অংশ নেন।
বিশেষ করে উত্তর কলকাতা ও দক্ষিণ কলকাতার সাংগঠনিক পরিস্থিতি, বিভিন্ন ওয়ার্ডে দলের অবস্থান এবং সম্ভাব্য নির্বাচনী সমীকরণ নিয়ে নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
বুথ সংগঠন মজবুত করার ওপর জোর
কলকাতা পুরভোটে ভালো ফল করতে হলে বুথ স্তরে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বিজেপি। সেই কারণে প্রতিটি বুথে দলের সংগঠন কতটা সক্রিয়, কোথায় সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে এবং কোন এলাকায় আরও বেশি কর্মী-সমর্থককে সক্রিয় করা প্রয়োজন—তা নিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
পুরভোটের আগে বুথ কমিটি এবং স্থানীয় সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার পাশাপাশি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হতে পারে।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে আলোচনা
বৈঠকে বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। কোন ওয়ার্ডে কাকে প্রার্থী করা যেতে পারে, স্থানীয়ভাবে কার গ্রহণযোগ্যতা বেশি এবং সংগঠনের সঙ্গে কার যোগাযোগ শক্তিশালী—এই সমস্ত বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির।
তবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা নির্বাচনের দিনক্ষণ এবং দলীয় সমীক্ষার পরই নির্ধারিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রচারের রূপরেখা তৈরির প্রস্তুতি
শুধু প্রার্থী বাছাই বা সংগঠন শক্তিশালী করাই নয়, পুরভোটের প্রচারের রূপরেখা নিয়েও প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি। কলকাতার নাগরিক পরিষেবা, রাস্তা, নিকাশি, পানীয় জল, আবর্জনা ব্যবস্থাপনা-সহ পুর পরিষেবার বিভিন্ন বিষয়কে প্রচারের মূল ইস্যু করার সম্ভাবনা রয়েছে।
ওয়ার্ডভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করে স্থানীয় মানুষের কাছে সেই বিষয়গুলি তুলে ধরার কৌশল নেওয়া হতে পারে। একইসঙ্গে দলের রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে প্রচারে কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়েও পরবর্তী পর্যায়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করা হবে।
পুরভোটকে ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ
কলকাতা পুরসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, ততই তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পুরসভায় ক্ষমতাসীন তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিক নাগরিক সমস্যা তুলে ধরে বিজেপি নিজেদের জনভিত্তি বাড়ানোর চেষ্টা করবে বলে রাজনৈতিক মহলের অনুমান।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য নির্বাচনের আগেই বিজেপির এই সাংগঠনিক তৎপরতা থেকে স্পষ্ট—কলকাতা পুরভোটকে কোনওভাবেই হালকাভাবে নিতে চাইছে না গেরুয়া শিবির। এখন দেখার, বিশেষ কমিটি গঠন থেকে শুরু করে বুথভিত্তিক সংগঠন এবং প্রার্থী বাছাইয়ের এই প্রস্তুতি শেষ পর্যন্ত ভোটের ময়দানে বিজেপিকে কতটা সুবিধা এনে দেয়।
