৭ বছর পর ভারতে আসতে পারেন শি জিনপিং, দিল্লির BRICS সম্মেলনে মোদির সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা
নয়াদিল্লির BRICS শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসতে পারেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সফর চূড়ান্ত হলে প্রায় সাত বছর পর তাঁর ভারত সফর হতে পারে।
৭ বছর পর ভারতে আসতে পারেন শি জিনপিং দিল্লির BRICS সম্মেলনে
নয়াদিল্লি, সিটি নিউজ বাংলা, ইন্টারন্যাশমাল ডেস্ক ১৫ : আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা BRICS শীর্ষ সম্মেলনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এই সম্মেলনে যোগ দিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারতে আসতে পারেন বলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে প্রায় সাত বছর পর তাঁর ভারত সফর হতে পারে। শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা, আবাসন এবং প্রতিনিধিদলের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

প্রায় ৪০০ সদস্যের প্রতিনিধিদল আসার সম্ভাবনা
কূটনৈতিক সূত্রের খবর, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি বড় চীনা প্রতিনিধিদল ভারতে আসতে পারে। সেই দলে প্রায় ৪০০ জন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধির থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। নিরাপত্তা এবং আবাসনের বিষয়টি নিয়ে চীনা কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের কাজ শুরু করেছেন বলে জানা যাচ্ছে।
প্রস্তাবিত প্রতিনিধিদলের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বড়। ২০১৯ সালে শি জিনপিংয়ের ভারত সফরের সময় যে প্রতিনিধিদল ছিল, তার তুলনায় এবার সদস্য সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে বলে সূত্রের দাবি। ফলে সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং লজিস্টিক প্রস্তুতির গুরুত্বও বাড়ছে।
গালওয়ান পর্বের পর ফের সম্পর্ক স্বাভাবিকের পথে?
শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফরকে শুধু BRICS সম্মেলনের দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, ভারত-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সীমান্ত পরিস্থিতি, সেনা মোতায়েন এবং পারস্পরিক আস্থার সংকটের প্রভাব পড়েছিল দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কেও।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে কূটনৈতিক আলোচনা এবং যোগাযোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য দিল্লি সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন বার্তা দিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
BRICS মঞ্চে মুখোমুখি হতে পারেন মোদি-শি
নয়াদিল্লিতে BRICS শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনাও স্বাভাবিকভাবেই কূটনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সমস্যা, বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
তবে শি জিনপিংয়ের সফর এবং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি। ফলে শেষ পর্যন্ত তিনি দিল্লিতে আসবেন কি না, তা নিয়ে সরকারি নিশ্চিতকরণের অপেক্ষা রয়েছে।
সফরের দিনক্ষণ নিয়ে চীনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও নেই
ভারতের পক্ষ থেকে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে BRICS শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। চীনও ভারতের সভাপতিত্বে এই সম্মেলন আয়োজনকে সমর্থন করেছে। তবে শি জিনপিংয়ের সফরের দিনক্ষণ সম্পর্কে বেজিং এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা করেনি।
ফলে আপাতত তাঁর সফরকে ‘সম্ভাব্য’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। চীনা প্রেসিডেন্টের সফর চূড়ান্ত হলে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক প্রস্তুতির পরিধি আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন
BRICS বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক মঞ্চ। অর্থনীতি, বাণিজ্য, উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা এবং ভূ-রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো এই গোষ্ঠীর অন্যতম লক্ষ্য।
ভারতের মাটিতে এই শীর্ষ সম্মেলনে শি জিনপিংয়ের উপস্থিতি হলে তা শুধু BRICS-এর আলোচনাকেই গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে না, ভারত-চীন সম্পর্কের দিক থেকেও নতুন কূটনৈতিক বার্তা তৈরি করতে পারে।
এখন নজর বেজিংয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে। শি জিনপিং শেষ পর্যন্ত নয়াদিল্লির BRICS শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন কি না এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর কোনও গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয় কি না, সেটাই আগামী দিনের অন্যতম বড় কূটনৈতিক আকর্ষণ হতে চলেছে।
