‘দিমাগী নকশাল’ মন্তব্যে চিদম্বরমের পাল্টা কটাক্ষ, ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কে উত্তপ্ত রাজনীতি
স্বাধীনতা দিবসে মোদীর ‘দিমাগী নকশাল’ মন্তব্য ঘিরে চিদম্বরমের পাল্টা কটাক্ষ। ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কে কংগ্রেস-বিজেপির সংঘাত, কী বললেন কিরেন রিজিজু?
সিটি নিউজ বাংলা: স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘দিমাগী নকশাল’ মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। মোদীর বক্তব্যের পাল্টা কটাক্ষ করে নিজেকে ‘গর্বিত দিমাগী নকশাল’ বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেতা তথা সাংসদ পি চিদম্বরম। একইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু।

স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেন, দেশের জঙ্গল থেকে সশস্ত্র নকশালবাদ নির্মূলের পথে ভারত। পাশাপাশি শহরকেন্দ্রিক ‘দিমাগী নকশাল’ বা মাওবাদী চিন্তাধারায় প্রভাবিত ব্যক্তিদের নিয়েও সতর্কবার্তা দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় বিতর্ক।
সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পি চিদম্বরম লেখেন, তিনি একজন ‘গর্বিত দিমাগী নকশাল’। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও কেন্দ্রের এই শব্দবন্ধকে কটাক্ষ করে দাবি করেন, সরকার প্রথমে বিরোধীদের বিভিন্ন তকমা দেয়, পরে বিরোধীদেরই তোলা দাবিগুলি মেনে নেয়।
তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘দিমাগী নকশাল’ শব্দবন্ধটি কোনও রাজনৈতিক বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়নি। সংবিধান ও দেশের অখণ্ডতার বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নেয়, তাঁদের উদ্দেশ্যেই এই মন্তব্য করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এর পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’ নিয়েও কংগ্রেস-বিজেপির মধ্যে নতুন করে সংঘাত তৈরি হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসে কংগ্রেস সদর দফতরে জাতীয় গান পরিবেশনের সময় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আচরণ নিয়ে বিজেপি প্রশ্ন তোলে। বিজেপির অভিযোগ, সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী ‘বন্দে মাতরম’-এর অবমাননা করেছেন।
এই অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছে কংগ্রেস। দলের দাবি, অবমাননার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কংগ্রেসের বক্তব্য, অনুষ্ঠানের সময় সোনিয়া গান্ধী দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বসার জন্য চেয়ারের ব্যবস্থা করতে বলছিলেন।
নেতাজিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জের, অনন্ত মহারাজের ‘বঙ্গবিভূষণ’ প্রত্যাহার
অন্যদিকে কিরেন রিজিজু কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে বলেন, একসময় কংগ্রেস সম্পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ গাইত, কিন্তু এখন তারা শুধু নিজেদের দলের গান গায়। ফলে স্বাধীনতা দিবসের পরেও ‘দিমাগী নকশাল’ মন্তব্য এবং ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কে জাতীয় রাজনীতির উত্তাপ অব্যাহত রয়েছে।
