নিউ ফরাক্কায় ফের রেললাইনে ধস, শনিবারও বাতিল একাধিক ট্রেন
প্রবল বৃষ্টিতে নিউ ফরাক্কায় ফের রেললাইনে ধস। শনিবারও বাতিল উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস, পদাতিক, কাঞ্চনকন্যা, দার্জিলিং মেল-সহ একাধিক ট্রেন। বিকল্প পথে চলছে কিছু দূরপাল্লার ট্রেন।
নিউ ফরাক্কায় ফের রেললাইনে ধস, শনিবারও বিপর্যস্ত উত্তর-দক্ষিণবঙ্গের ট্রেন যোগাযোগ
ফরাক্কা, স্টেট ডেস্ক ৪: টানা প্রবল বৃষ্টির জেরে নিউ ফরাক্কায় রেললাইনে ধসের কারণে এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে ট্রেন চলাচল। বৃহস্পতিবার ভোরে প্রথমবার রেললাইনের নিচের মাটি ও ব্যালাস্ট সরে গিয়ে বিপর্যয় তৈরি হয়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতির কাজ শুরু হলেও কাজ চলাকালীন ফের নতুন করে ধস নামায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

এর জেরে শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার ও লোকাল ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। বেশ কিছু ট্রেনকে আবার বিকল্প পথে ঘুরিয়ে চালানো হচ্ছে। ফলে সপ্তাহান্তে যাতায়াতকারী হাজার হাজার যাত্রীকে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে।
আপ লাইনে পুরোপুরি বন্ধ ট্রেন চলাচল
রেল সূত্রে খবর, নিউ ফরাক্কা স্টেশন থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে আপ লাইনে ধস নেমেছে। নিরাপত্তার কারণে ওই লাইনে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডাউন লাইন দিয়ে সীমিত সংখ্যক ট্রেন অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত গতিতে চালানো হচ্ছে।
রেললাইনের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না রেল কর্তৃপক্ষ। তাই কোথাও ট্রেন বাতিল, কোথাও রুট পরিবর্তন এবং কোথাও পরিষেবা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
শনিবারও বাতিল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন
পূর্ব রেলের মালদহ ডিভিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবারও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন বাতিল রাখা হয়েছে। বাতিল হওয়া ট্রেনগুলির মধ্যে রয়েছে—
- উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস
- পদাতিক এক্সপ্রেস
- তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস
- কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস
- দার্জিলিং মেল
- বালুরঘাট এক্সপ্রেস
- নিউ জলপাইগুড়ি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস
এছাড়াও মালদহ–আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জার, ভাগলপুর–আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জার-সহ একাধিক মেমু ট্রেনও বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ফলে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গমুখী এবং উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গগামী বহু যাত্রীকে বিকল্প পরিবহণের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
বিকল্প পথে চলছে একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন
ট্রেন বাতিলের পাশাপাশি পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ কিছু মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনকে বিকল্প রুটে চালানো হচ্ছে। কিছু ট্রেনকে আজিমগঞ্জ, কাটিহার, মানসি ও মুঙ্গের হয়ে ঘুরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিকল্প পথে চলায় স্বাভাবিকভাবেই যাত্রাপথের দূরত্ব এবং সময় দুটোই বাড়ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় ট্রেনের গন্তব্যে পৌঁছতে দেরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মেরামতির কাজে যুদ্ধকালীন তৎপরতা
ধসের খবর পাওয়ার পর থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের কাজ শুরু করেছে রেল। রেলকর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু মেরামতির সময় ফের ধস নামায় পরিষেবা স্বাভাবিক করার পরিকল্পনায় বাধা তৈরি হয়েছে।
রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সম্পূর্ণ নিরাপদ করার পরই স্বাভাবিক গতিতে ট্রেন চালানো হবে। যাত্রী নিরাপত্তার সঙ্গে কোনওরকম আপস করা হবে না।
যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত বাস পরিষেবা
রেল যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প পরিবহণের উপর চাপ বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে উত্তরবঙ্গের দিকে যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য রাজ্য পরিবহণ দফতরের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ২০টি সরকারি বাস চালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে রেল পরিষেবা বন্ধ বা নিয়ন্ত্রিত থাকায় বিপুল সংখ্যক যাত্রীকে সামলাতে বাস পরিষেবার উপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
আটকে থাকা যাত্রীদের খাবার-পানীয় জলের ব্যবস্থা
দীর্ঘক্ষণ রেল পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় বিভিন্ন স্টেশন ও রেলপথে আটকে পড়া যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মুর্শিদাবাদ ও মালদহ জেলা প্রশাসনকে আটকে থাকা যাত্রীদের জন্য খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ পরিষেবা স্বাভাবিক না হলে যাত্রীদের যাতে আরও সমস্যায় পড়তে না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
যাত্রার আগে ট্রেনের সর্বশেষ স্ট্যাটাস যাচাইয়ের পরামর্শ
নিউ ফরাক্কায় রেললাইনে ফের ধস নামায় পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। ফলে যাত্রীদের পুরনো সময়সূচির উপর নির্ভর না করে যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট ট্রেনের সর্বশেষ অবস্থান ও পরিষেবা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের ট্রেনের লাইভ স্ট্যাটাস, বাতিলের খবর কিংবা রুট পরিবর্তনের তথ্য যাচাই করে তারপর স্টেশনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রবল বৃষ্টির জেরে নিউ ফরাক্কার রেল বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায়। ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ দ্রুত মেরামত করে কবে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক পরিষেবা ফিরবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে যাত্রী ও রেল কর্তৃপক্ষ।
