রামপুরহাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মীয়ার অস্বাভাবিক মৃ*ত্যু, তদন্তে পুলিশ
রামপুরহাটের কুসুম্বা গ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মীয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যু। বাড়ি থেকে বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের দেহ উদ্ধার। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় পুলিশ।
রামপুরহাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মীয়ার অস্বাভাবিক মৃ*ত্যু

রামপুরহাট, স্টেট ডেস্ক ১২ : বীরভূমের রামপুরহাটের কুসুম্বা গ্রামে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মীয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, কুসুম্বা গ্রামের পারিবারিক বাড়ি থেকে বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দে*হ উদ্ধার করে পুলিশ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর বয়স ২৮ থেকে ৩১ বছরের মধ্যে বলা হয়েছে। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই নীহার মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে।
পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে রামপুরহাট গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। আপাতত ঘটনাটি অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মানসিক অবসাদের বিষয়টি সামনে এলেও ঠিক কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
কুসুম্বার বাড়ির দোতলা থেকে দেহ উদ্ধার
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কুসুম্বা গ্রামে নীহার মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতেই থাকতেন বৃষ্টি। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির দোতলার ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। খবর দেওয়া হয় রামপুরহাট থানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। মৃ*ত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে কারও কোনও কথা হয়েছিল কি না, তিনি কোনও সমস্যার মধ্যে ছিলেন কি না—সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চাকরি হারানোর পর মানসিক অবসাদের দাবি
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃষ্টি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদের মধ্যে ছিলেন এবং তাঁর চিকিৎসাও চলছিল। পরিবারের দাবি, কয়েক বছর ধরে তাঁর মানসিক চাপের সমস্যা ছিল। চাকরি সংক্রান্ত জটিলতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যাও তাঁর ওপর প্রভাব ফেলেছিল বলে ঘনিষ্ঠদের একাংশের দাবি।
বৃষ্টি বোলপুরের একটি স্কুলে অশিক্ষক কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় তাঁর চাকরিও বাতিল হয়। ২০২৩ সালে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশের পর যে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে বৃষ্টির নামও ছিল বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াতেও সেই চাকরি হারানোর বিষয়টি বহাল থাকে।
চাকরি হারানোর পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে। তবে পুলিশের তদন্তে এখনও পর্যন্ত চাকরি হারানোই মৃ*ত্যুর একমাত্র কারণ—এমন কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হয়নি।
ব্যক্তিগত জীবনেও চলছিল টানাপোড়েন
বৃষ্টির ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সমস্যার কথা সামনে এসেছে। সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, তাঁর স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল এবং বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও চলছিল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাবার বাড়িতেই থাকছিলেন বলে পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে।
ফলে চাকরি হারানোর মানসিক চাপের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের টানাপোড়েনও তাঁর মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলেছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসছে।
কী কারণে মৃ*ত্যু, এখনও ধোঁয়াশা
যদিও প্রাথমিকভাবে পুলিশ আত্মহত্যার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে, তবুও মৃত্যুর কারণ এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে কি না, তা নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য রয়েছে। ফলে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পুলিশ পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। মৃত্যুর আগে বৃষ্টির মানসিক অবস্থা কেমন ছিল, কারও সঙ্গে তাঁর কোনও বিরোধ বা যোগাযোগ হয়েছিল কি না এবং অন্য কোনও কারণ এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না—সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নীহার মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে বৃষ্টি
বৃষ্টি মুখোপাধ্যায় ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই নীহার মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে। নীহার একসময় রামপুরহাট-১ ব্লকের তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় নেতা ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে এই মৃ*ত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলেও আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
তবে পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে পুলিশ ঘটনাটিকে আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা হিসেবেই দেখছে। মৃত্যুর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক কারণ বা অন্য কোনও অপরাধমূলক বিষয় যুক্ত রয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।
ময়*নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা
এই ঘটনায় এখন মূল নজর ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকে। রিপোর্ট হাতে আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন।
একদিকে চাকরি হারানোর পর মানসিক অবসাদ, অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন—এই দুই বিষয়কে ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগে কোনও কারণকেই চূড়ান্ত বলে ধরে নিতে চাইছে না পুলিশ।
রামপুরহাটের কুসুম্বা গ্রামের এই অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে তাই এখনও রহস্য কাটেনি। পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টেই পরিষ্কার হবে বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর নেপথ্যে ঠিক কী ঘটেছিল।
