সজ্জন কুমারের স্মরণসভায় ৩ বিজেপি সাংসদ, কড়া ভর্ৎসনা দলীয় নেতৃত্বের
সজ্জন কুমারের পরিবারের সঙ্গে দেখা ও স্মরণসভায় যোগ দেওয়ায় বিতর্কে দিল্লির ৩ বিজেপি সাংসদ। তলব করে কড়া ভর্ৎসনা বিজেপি নেতৃত্বের।
সজ্জন কুমারের স্মরণসভায় গিয়ে বিপাকে ৩ বিজেপি সাংসদ,কড়া ভর্ৎসনা
নয়াদিল্লি, ন্যাশনাল ডেস্ক ৯: ১৯৮৪ সালের শিখ-বিরোধী দাঙ্গার মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ প্রয়াত সজ্জন কুমারের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা এবং তাঁর স্মরণসভায় অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কে জড়ালেন দিল্লির তিন বিজেপি সাংসদ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দলের অন্দরেই অসন্তোষ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত তিন সাংসদকে তলব করে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করেছে বিজেপি নেতৃত্ব।

জানা গিয়েছে, সজ্জন কুমারের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন পশ্চিম দিল্লির সাংসদ কমলাজিৎ সেহরাওয়াত, দক্ষিণ দিল্লির সাংসদ রামবীর সিং বিধুরি এবং উত্তর-পশ্চিম দিল্লির সাংসদ যোগেন্দ্র চান্ডোলিয়া। তাঁদের এই উপস্থিতির ছবি ও খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জোর বিতর্ক।
দলের তরফে স্পষ্ট বার্তা
ঘটনার পর বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, সজ্জন কুমারের মতো ১৯৮৪ সালের দাঙ্গা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন দল সমর্থন করে না।
দলীয় সূত্রের খবর, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন তিন সাংসদকে তলব করেন। তাঁদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার পাশাপাশি দলের অবস্থানও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়। দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এমন ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের পদক্ষেপের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
‘ব্যক্তিগতভাবে গিয়েছিলেন সাংসদরা’
বিতর্কের মধ্যে বিজেপির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র আর. পি. সিং জানান, তিন সাংসদ দলের প্রতিনিধি হিসেবে সজ্জন কুমারের পরিবারের কাছে যাননি। তাঁরা নিজেদের ব্যক্তিগত দায়িত্বে সেখানে গিয়েছিলেন বলে দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
তবে এই ব্যাখ্যা সত্ত্বেও বিষয়টি নিয়ে দলের মধ্যে বিতর্ক থামেনি। কারণ ১৯৮৪ সালের শিখ-বিরোধী দাঙ্গার সঙ্গে যুক্ত মামলায় সজ্জন কুমারের দণ্ডিত হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বলে মনে করা হয়।
এইচ. এস. ফুলকার তীব্র আপত্তি
ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানান প্রবীণ আইনজীবী এবং বিজেপি নেতা এইচ. এস. ফুলকা। ১৯৮৪ সালের দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হয়ে দীর্ঘদিন আইনি লড়াই চালানো ফুলকা ওই সাংসদদের সজ্জন কুমারের বাড়িতে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র আপত্তি জানান।
তিনি তিন সাংসদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান এবং তাঁদের বয়কটের ডাক দেন। পরে বিজেপি নেতৃত্ব বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে তিন সাংসদকে তলব করে ভর্ৎসনা করায় দলীয় সভাপতি নিতিন নবীনকে ধন্যবাদও জানান তিনি।
১৯৮৪-র দাঙ্গার স্মৃতি ঘিরে ফের রাজনৈতিক উত্তাপ
১৯৮৪ সালের শিখ-বিরোধী দাঙ্গা ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ও বেদনাদায়ক অধ্যায়। সেই দাঙ্গায় বহু মানুষের মৃত্যু এবং অসংখ্য পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দাঙ্গা-সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলার বিচার দীর্ঘ সময় ধরে চলেছে।
সজ্জন কুমারের বিরুদ্ধে দাঙ্গা-সংক্রান্ত মামলায় গুরুতর অভিযোগ ওঠে এবং পরবর্তীতে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। ফলে তাঁর মৃত্যুর পর বিজেপির তিন সাংসদের তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
দলের অবস্থান নিয়ে জল্পনা
তিন সাংসদের এই পদক্ষেপকে দলীয় নেতৃত্ব যে স্বাভাবিকভাবে নেয়নি, তাঁদের তলব করে ভর্ৎসনার ঘটনায় তা স্পষ্ট হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে মূলত বোঝানো হয়েছে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা সৌজন্য সাক্ষাতের যুক্তি থাকলেও দাঙ্গার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কোনও ব্যক্তির প্রতি প্রকাশ্য সহানুভূতি দলের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনীতিতে নতুন করে ১৯৮৪ সালের দাঙ্গা, তার বিচার এবং রাজনৈতিক দলগুলির অবস্থান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিন সাংসদের ব্যক্তিগত সফর শেষ পর্যন্ত দলের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ালেও, বিজেপি নেতৃত্বের দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
