শিলদায় নাবালিকা আদিবাসী স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার টোটোচালক
ঝাড়গ্রামের শিলদায় নাবালিকা আদিবাসী স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে টোটোচালক গ্রেফতার। দ্রুত চার্জশিট ও ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে বিচারের উদ্যোগ পুলিশের।
শিলদায় নাবালিকা আদিবাসী স্কুলছাত্রীকে ধ*র্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার টোটোচালক!

সিটি নিউজ বাংলা, স্টেট ডেস্ক ৭ : ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ির শিলদা এলাকায় এক নাবালিকা আদিবাসী স্কুলছাত্রীকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত টোটোচালক রূপকুমার দাসকে গ্রেফতার করেছে বেলপাহাড়ি থানার পুলিশ। অভিযুক্ত বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাস্তায় নামেন স্থানীয় আদিবাসী সমাজ ও এলাকার বাসিন্দারা। শিলদা-বাঁকুড়া রাজ্য সড়কের ৫ ও ৯ নম্বর রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতির মধ্যে অভিযুক্তের বাড়ি ও দোকানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে জানা গিয়েছে।
টিউশনে যাওয়ার পথে জঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
অভিযোগ, গত ২৩ আগস্ট টিউশনে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ওই নাবালিকা স্কুলছাত্রী। সেই সময় অভিযুক্ত টোটোচালক তাকে ভুল পথে নিয়ে জঙ্গলের দিকে চলে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। সেখানে ওই নাবালিকার উপর শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। এরপর পরিবারের তরফে বেলপাহাড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ এবং অভিযুক্ত টোটোচালককে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযুক্ত গ্রেফতার, জেল হেফাজতে
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ করে পুলিশ অভিযুক্ত রূপকুমার দাসকে গ্রেফতার করে। আদালতে তোলার পর বর্তমানে সে জেল হেফাজতে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য কোনও তথ্য বা ব্যক্তির ভূমিকা রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশের তদন্তে ঘটনাস্থল, অভিযুক্তের গতিবিধি এবং নাবালিকার বয়ান-সহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করছে।
দ্রুত বিচারের দাবিতে রাজ্য সড়ক অবরোধ
অভিযুক্ত গ্রেফতার হলেও ক্ষোভ কমেনি এলাকায়। দোষীর কঠোরতম শাস্তির দাবিতে ইথতলা মোড় সংলগ্ন এলাকায় রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, এমনকি ফাঁসির দাবিও ওঠে বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে।
অবরোধের জেরে ওই রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
অভিযুক্তের বাড়ি ও দোকানে ভাঙচুর
বিক্ষোভের মধ্যেই উত্তেজিত জনতার একাংশ অভিযুক্তের বাড়ি ও দোকানে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর হয়। আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আবেদন জানানো হয়।
পুলিশের মূল লক্ষ্য এখন তদন্ত দ্রুত শেষ করে আইন অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। একইসঙ্গে এলাকায় যাতে নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে বিচারের উদ্যোগ
ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার মানব সিঙ্গলা জানিয়েছেন, এই মামলায় দ্রুত চার্জশিট পেশ করে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে বিচারের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে দ্রুত তদন্ত শেষ করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিগৃহীতা নাবালিকার নিরাপত্তা ও মানসিক সুরক্ষার কথাও মাথায় রাখা হয়েছে। তাকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য মেদিনীপুরের একটি হোমে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।
নিরাপত্তা ও দ্রুত বিচারের দাবিতে সরব এলাকাবাসী
ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নাবালিকার নিরাপত্তা এবং অভিযুক্তের দ্রুত শাস্তির দাবিতে সরব স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, তদন্ত দ্রুত শেষ করে আদালতে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করতে হবে এবং দোষ প্রমাণিত হলে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ঘটনার তদন্ত আইন মেনেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দ্রুত চার্জশিট পেশ করে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে বিচারের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে।
