মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রী মোদীর, বললেন ‘চিরদিন মানুষের হৃদয়ে রাজ করবেন
উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ‘মন কি বাত’-এ মহানায়কের অভিনয় প্রতিভা, ‘নায়ক’ এবং বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন মোদী।
মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রী মোদীর

🎙️ ‘মন কি বাত’-এ উত্তম কুমারকে স্মরণ
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উত্তম কুমারকে একজন অনন্য বহুমুখী অভিনেতা হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর অভিনয়ের স্বতন্ত্রতা কীভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্মের দর্শককে মুগ্ধ করেছে, সেই প্রসঙ্গও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে।
মোদীর কথায়, উত্তম কুমারের অভিনয়ে ছিল গভীর আবেগ, স্বাভাবিকতা এবং অসাধারণ দক্ষতার মেলবন্ধন। পর্দায় যে চরিত্রই তিনি ফুটিয়ে তুলতেন, নিজের অভিনয় ক্ষমতায় সেই চরিত্রকে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য ও জীবন্ত করে তুলতেন। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাঁর অবদান তাই আজও অনস্বীকার্য।
🎥 সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’-এর প্রসঙ্গ
উত্তম কুমারকে স্মরণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন কিংবদন্তি পরিচালক সত্যজিৎ রায়-এর কালজয়ী ছবি ‘নায়ক’-এর কথা। চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে প্রচলিত মত অনুযায়ী, উত্তম কুমারকে মাথায় রেখেই সত্যজিৎ রায় ছবিটির চিত্রনাট্য নির্মাণ করেছিলেন বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
‘নায়ক’ ছবিতে উত্তম কুমারের অভিনয় বাংলা চলচ্চিত্রে এক বিশেষ দৃষ্টান্ত তৈরি করেছিল। একজন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকার বাহ্যিক সাফল্যের আড়ালে থাকা মানসিক দ্বন্দ্ব, অনিশ্চয়তা ও আত্মবিশ্লেষণকে যে গভীরতায় তিনি পর্দায় তুলে ধরেছিলেন, তা আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে স্মরণীয়।
❤️ বাংলায় প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাতেই বলেন—“চিরদিন মানুষের হৃদয়ে রাজ করবেন উত্তম কুমার।”
প্রধানমন্ত্রীর মুখে বাংলায় এই শ্রদ্ধাবার্তা প্রকাশ্যে আসতেই তা ঘিরে বিশেষ আবেগ তৈরি হয়েছে বাংলা চলচ্চিত্রমহলে। মহানায়কের জন্মশতবর্ষের প্রাক্কালে এই বার্তাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন তাঁর অনুরাগীরা।
🏛️ রাজ্যজুড়ে জন্মশতবর্ষ পালনের প্রস্তুতি
উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে কলকাতায় ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার দিনব্যাপী বিশেষ উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু চার দিনের অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না এই উদযাপন। বছরজুড়ে মহানায়কের জীবন, কর্ম এবং বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অবদানকে সামনে রেখে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।
মহানায়কের সঙ্গে সম্পর্কিত কলকাতার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানকে কেন্দ্র করে বিশেষ গাইডেড ওয়াক আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে উত্তম কুমারের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা শহরের বিভিন্ন জায়গা, তাঁর কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং বাংলা চলচ্চিত্রের সেই সময়ের পরিবেশ সম্পর্কে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের জানানো হবে।
📮 প্রকাশিত হবে স্মারক ডাকটিকিট ও পোস্টাল কভার
জন্মশতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে ডাক বিভাগের পক্ষ থেকেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহানায়ক উত্তম কুমারের স্মরণে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট ও পোস্টাল কভার প্রকাশ করা হবে।
ফলে জন্মশতবর্ষের উদযাপন শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; সরকারি ও প্রশাসনিক উদ্যোগেও মহানায়কের স্মৃতিকে সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
🌟 প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধায় নতুন মাত্রা
উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই শ্রদ্ধা বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতাকে জাতীয় স্তরে ফের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও উত্তম কুমারের অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও চলচ্চিত্রের প্রতি তাঁর অবদান যে এখনও দর্শকের মনে সমানভাবে জীবন্ত—প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই কথাই আরও একবার উঠে এল।
মহানায়কের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে কলকাতা যখন সাজছে একাধিক বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য, তখন প্রধানমন্ত্রীর এই শ্রদ্ধাবার্তা উদযাপনের আবহে আরও একটি বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। বাংলা চলচ্চিত্রের পর্দায় তাঁর উপস্থিতি শেষ হলেও দর্শকের হৃদয়ে উত্তম কুমারের জায়গা যে চিরস্থায়ী—জন্মশতবর্ষের প্রাক্কালে সেই সত্যই যেন আরও একবার সামনে এল।
সিটি নিউজ বাংলা, কলকাতা, এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক ১১ : বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি মহানায়ক উত্তম কুমার-এর আসন্ন জন্মশতবার্ষিকীকে ঘিরে আবেগ ও উচ্ছ্বাসের আবহে বিশেষ শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর ১৩৭তম ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে বাংলা চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তি অভিনেতাকে স্মরণ করে তাঁর অভিনয় প্রতিভা, চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলার অসাধারণ ক্ষমতা এবং দর্শকের হৃদয়ে তাঁর স্থায়ী প্রভাবের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
২০২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মহানায়ক উত্তম কুমারের ১০০তম জন্মবার্ষিকী। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই কলকাতা ও রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে নানা আয়োজনের প্রস্তুতি। জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে চার দিনের বিশেষ উৎসবের পাশাপাশি বছরভর একাধিক কর্মসূচি গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
