ভবানীপুরের স্কুলে টিফিনে সাপের কামড়, হাসপাতালে প্রথম শ্রেণির ছাত্র
ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে টিফিনের সময় প্রথম শ্রেণির ছাত্রকে সাপের কামড়। দ্রুত এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি, আপাতত স্থিতিশীল ছাত্রের অবস্থা।
SEO Title
টিফিনের সময় স্কুলেই সাপের কামড়, ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে আতঙ্ক !
কলকাতা, স্টেট ডেস্ক ৪ : স্কুলের টিফিনের সময় খেলতে গিয়ে আচমকাই সাপের কামড়! কলকাতার ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রকে সাপে কামড়ানোর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ স্কুলের টিফিনের বিরতিতে ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গিয়েছে। আক্রান্ত ছাত্রকে দ্রুত এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে সে এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে।

আক্রান্ত ছাত্রের নাম দৃপ্ত পাল। সে মিত্র ইনস্টিটিউশনের প্রথম শ্রেণির পড়ুয়া। স্কুলের মূল ভবন চত্বরেই টিফিন চলাকালীন সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটে। আচমকা এই ঘটনায় স্কুলের শিক্ষক, কর্মী এবং অন্যান্য পড়ুয়াদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, সোমবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ টিফিনের সময় স্কুল চত্বরে থাকা অবস্থায় সাপটি শিশুটিকে কামড়ায়। বিষয়টি নজরে আসার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। পরে তাকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর বর্তমানে শিশুটির অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে এই ঘটনার পর আরও বড় প্রশ্ন উঠেছে স্কুল চত্বরে নিরাপত্তা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে। কারণ, মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে কলকাতার একটি স্কুলে সাপের কামড়ের এটি দ্বিতীয় ঘটনা বলে জানা গিয়েছে। ফলে পরপর এমন ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
ঘটনার পর স্কুল চত্বর নিরাপদ কি না, সেখানে আরও কোনও সাপ বা সরীসৃপ লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বন দপ্তরের কর্মী ও বিশেষজ্ঞদের দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। স্কুলের বিভিন্ন অংশ, বিশেষ করে ঝোপঝাড়, নোংরা ও আর্দ্র জায়গা এবং পড়ুয়াদের যাতায়াতের আশপাশের এলাকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরপর স্কুল চত্বরে সাপের উপস্থিতি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের একাংশের বক্তব্য, ছোট ছোট শিশুদের স্কুলে পাঠানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তাই প্রথম বিষয়। তাই স্কুল চত্বর নিয়মিত পরিষ্কার করা, ঝোপঝাড় কেটে ফেলা এবং এমন জায়গা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, প্রশাসনের তরফেও ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। শিশুটির চিকিৎসার বিষয়টি নজরে রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি স্কুল চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনার পর কলকাতার অন্যান্য স্কুলগুলিতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে জল জমা, ঘাস-ঝোপ এবং আর্দ্র পরিবেশে সাপ বা অন্যান্য সরীসৃপের আনাগোনা বাড়তে পারে। ফলে স্কুল চত্বর নিয়মিত পরিদর্শন ও পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি পড়ুয়াদের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।
একই সপ্তাহে স্কুল চত্বরে সাপের কামড়ের পরপর দুটি ঘটনা সামনে আসায় বিষয়টি আর শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না অনেকেই। শিশুদের স্কুলে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্কুল কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে আরও সক্রিয় হওয়ার দাবি উঠেছে।
এই মুহূর্তে সবার নজর আক্রান্ত প্রথম শ্রেণির ছাত্র দৃপ্ত পালের শারীরিক অবস্থার দিকে। দ্রুত চিকিৎসার ফলে তার অবস্থা স্থিতিশীল থাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও স্কুল চত্বরে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল এবং ভবিষ্যতে যাতে আর কোনও পড়ুয়া বিপদের মুখে না পড়ে, সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
