কোচবিহারের ধর্মতলা মোড়ে সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে রাখি উৎসবের আয়োজন করল কোচবিহার অনাসৃষ্টি। পথচারী, টোটোচালক, রিকশাচালক ও দোকানদারদের হাতে পরানো হল রাখি।
সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধনে রাখি উৎসব, পথচারী-টোটোচালক-দোকানদারদের হাতে রাখি পরাল কোচবিহার অনাসৃষ্টি
কোচবিহার, নিজস্ব সংবাদদাতা: রাখির বন্ধন শুধু ভাই-বোনের সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলারও এক শক্তিশালী বার্তা বহন করে। সেই বার্তাকেই সামনে রেখে কোচবিহার শহরের ধর্মতলা মোড়ে বিশেষ রাখি উৎসবের আয়োজন করল কোচবিহার অনাসৃষ্টি।

প্রতিবছরের মতো এবারও রাখিবন্ধন উপলক্ষে সংগঠনের সদস্যরা পথচলতি সাধারণ মানুষের হাতে রাখি পরিয়ে দেন। পথচারী থেকে শুরু করে টোটোচালক, রিকশাচালক এবং স্থানীয় দোকানদার—সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের হাতে রাখি পরিয়ে সৌভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। রাখি পরানোর পাশাপাশি অনেকের হাতে তুলে দেওয়া হয় চকলেটও।
ব্যস্ত ধর্মতলা মোড়ে অন্যরকম রাখিবন্ধন
রাখিবন্ধন উৎসবকে কেন্দ্র করে এদিন কোচবিহারের ব্যস্ত ধর্মতলা মোড়ে তৈরি হয় এক অন্যরকম পরিবেশ। কর্মব্যস্ততার মধ্যেই হঠাৎ হাতে রাখি ও চকলেট পেয়ে হাসিমুখে এই উদ্যোগে সামিল হন পথচারীরা।
সংগঠনের সদস্যদের বক্তব্য, জাতি, ধর্ম, পেশা কিংবা সামাজিক অবস্থানের ভেদাভেদ ভুলে সমাজের সকল মানুষকে একসূত্রে বাঁধাই ছিল এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও দৃঢ় করতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পথচারী থেকে টোটোচালক—সবার হাতেই রাখি
ধর্মতলা মোড় দিয়ে যাতায়াত করা সাধারণ মানুষদের পাশাপাশি টোটোচালক, রিকশাচালক এবং এলাকার বিভিন্ন দোকানদারের হাতেও রাখি পরিয়ে দেন কোচবিহার অনাসৃষ্টির সদস্যরা।
ব্যস্ততার মধ্যেও কয়েক মুহূর্তের জন্য এই সৌভ্রাতৃত্বের উৎসবে অংশ নেন বহু মানুষ। আচমকা হাতে রাখি পরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মিষ্টি উপহার হিসেবে চকলেট পেয়ে অনেকেই আনন্দ প্রকাশ করেন।
প্রতিবছরই সম্প্রীতির বার্তা
জানা গিয়েছে, প্রতিবছর রাখিবন্ধন উপলক্ষে এই ধরনের সামাজিক ও সৌভ্রাতৃত্বের কর্মসূচি পালন করে আসছে কোচবিহার অনাসৃষ্টি। সংগঠনের সদস্যদের মতে, রাখির প্রকৃত তাৎপর্য কেবল পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
সমাজের প্রতিটি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলাও রাখিবন্ধন উৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। সেই ভাবনা থেকেই শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ছোট্ট উদ্যোগে সামাজিক সম্প্রীতির বড় বার্তা
এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে একটাই বার্তা তুলে ধরতে চেয়েছে সংগঠন—সম্পর্কের বন্ধন শুধু পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। সমাজের প্রতিটি মানুষের মধ্যেও ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্মানের বন্ধন তৈরি হওয়া প্রয়োজন।
ধর্মতলা মোড়ের এই রাখি উৎসব তাই শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। পথচারী, টোটোচালক, রিকশাচালক ও দোকানদারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের হাতে রাখি পরিয়ে সামাজিক ঐক্য ও সৌভ্রাতৃত্বের এক সুন্দর বার্তা তুলে ধরল কোচবিহার অনাসৃষ্টি।
ভালোবাসা ও সম্প্রীতির ছোট্ট একটি প্রকাশও যে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে তুলতে পারে, ধর্মতলা মোড়ের এই উদ্যোগ যেন সেই বার্তাই নতুন করে মনে করিয়ে দিল।
