প্রকাশ্য দিবালোকে কালীমন্দিরে চুরি, মায়ের সোনার টিপ-সহ পুজোর সামগ্রী উধাও
কোচবিহারের হরিণ চওড়া রানার ক্লাব এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে কালীমন্দিরে চুরি। মায়ের সোনার টিপ-সহ একাধিক পুজোর সামগ্রী উধাও। তদন্তে কোতোয়ালি থানার পুলিশ।
প্রকাশ্য দিবালোকে কালীমন্দিরে চুরি, মায়ের সোনার টিপ-সহ পুজোর সামগ্রী উধাও!

কোচবিহার, ডিস্ট্রিক্ট ডেস্ক : প্রকাশ্য দিবালোকে কালীমন্দিরে চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল কোচবিহার শহর সংলগ্ন হরিণ চওড়া রানার ক্লাব এলাকায়। সোমবার দুপুরে এলাকার কালীমন্দিরে ঢুকে মায়ের অলংকার-সহ বেশ কিছু পুজোর সামগ্রী চুরি করার অভিযোগ উঠেছে। দিনের ব্যস্ত সময়ে মন্দিরে এমন চুরির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো সোমবার দুপুরেও মন্দিরের পুরোহিত পুজো করার জন্য মন্দিরে আসেন। বাইরে থেকে মন্দিরের দরজা স্বাভাবিকভাবেই আটকানো অবস্থায় দেখতে পান তিনি। ফলে প্রথমে তাঁর কোনও সন্দেহ হয়নি। কিন্তু মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ করতেই তাঁর নজরে আসে বেশ কিছু অস্বাভাবিক বিষয়।
পুরোহিত দেখতে পান, মন্দিরের ভিতরে থাকা পুজোর বিভিন্ন সামগ্রী অগোছালো অবস্থায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এরপর মায়ের মূর্তির দিকে নজর যেতেই তাঁর সন্দেহ আরও বাড়ে। মায়ের কপালে থাকা সোনার টিপটি সেখানে নেই বলে দেখতে পান তিনি। পরে মন্দিরের অন্যান্য সামগ্রীও পরীক্ষা করে চুরির বিষয়টি স্পষ্ট হয় বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার কথা জানাজানি হতেই দ্রুত মন্দির চত্বরে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। খবর পেয়ে কোচবিহার কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ মন্দির পরিদর্শন করার পাশাপাশি পুরোহিত এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে।
প্রকাশ্য দিবালোকে মন্দিরে কীভাবে চুরির ঘটনা ঘটল, চুরির আগে বা পরে অভিযুক্তরা কীভাবে মন্দিরে ঢুকেছিল এবং ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মন্দিরের আশপাশে কোনও সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে কি না, থাকলে সেই ফুটেজ সংগ্রহ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হতে পারে বলেই জানা যাচ্ছে।
এই ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ধর্মীয় স্থানে দিনের বেলায় এমন চুরির ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কোচবিহার কোতোয়ালি থানার পুলিশ। চুরি যাওয়া অলংকার ও পুজোর সামগ্রীর প্রকৃত তালিকা এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তদন্তের পরই তা স্পষ্ট হবে। দিনের আলোয় মন্দিরে এই চুরির ঘটনায় এলাকায় এখন চাঞ্চল্য অব্যাহত।
