উত্তরপ্রদেশে ভয়াবহ বাজি কারখানা বিস্ফোরণ, ১১ জনের মৃত্যু
উত্তরপ্রদেশের কৌশাম্বীতে বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১১ জনের মৃত্যু। মৃতদের মধ্যে ৮ জন শিশু। ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধারকাজ, তদন্তে পুলিশ ও প্রশাসন।
ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল উত্তরপ্রদেশ, বাজি কারখানায় ১১ জনের মৃত্যু!

কৌশাম্বী, ন্যাশনাল ডেস্ক : সোমবার দুপুরে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল উত্তরপ্রদেশের কৌশাম্বী জেলা। পিপরি থানার অন্তর্গত মনৌরি বাজার সংলগ্ন মহম্মদপুর এলাকায় একটি বাজি তৈরির কারখানায় আচমকাই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কারখানাটি কার্যত ধ্বংস হয়ে যায় এবং আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত ও ভেঙে পড়ে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মৃতদের মধ্যে একাধিক শিশু রয়েছে। সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে ৮ জন শিশু বলে জানা গিয়েছে।
সোমবার দুপুরে আচমকা বিস্ফোরণের শব্দে কার্যত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। স্থানীয়দের দাবি, বিস্ফোরণের শব্দ বহু দূর পর্যন্ত শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী দেখা যায়। কারখানায় মজুত থাকা বাজিতে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটতে থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
ধসে পড়ল কারখানা, ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক বাড়ি
বিস্ফোরণের অভিঘাতে বাজি কারখানাটি সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়ে। শুধু কারখানাই নয়, আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়িও ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কারখানার আশপাশের প্রায় ৫০ মিটারের মধ্যে থাকা কয়েকটি বাড়ি ভেঙে পড়েছে। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়।
বিস্ফোরণের পর এলাকায় চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে পুলিশ, দমকল এবং প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান শুরু করেন।
১১ জনের মৃত্যু, আহতদের হাসপাতালে ভর্তি
জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য প্রয়াগরাজের এসআরএন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহতের চিকিৎসা সেখানে চলছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
হাসপাতালে আহতদের দেখতে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ছুটে আসেন। প্রিয়জনদের খোঁজে হাসপাতাল চত্বরে কান্না ও উৎকণ্ঠার পরিবেশ তৈরি হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
উদ্ধারে পুলিশ, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ
বিস্ফোরণের পর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সম্ভাব্য আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ ও প্রশাসনের পাশাপাশি এনডিআরএফ এবং এসডিআরএফ-এর দলও উদ্ধার অভিযানে যুক্ত হয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।
বিস্ফোরণের তীব্রতা এবং ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ বেশি হওয়ায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কোথাও আরও বিস্ফোরক বা বাজি মজুত রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাজি কারখানাটি বৈধ ছিল কি? উঠছে প্রশ্ন
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে ওই এলাকায় এত বিপজ্জনকভাবে বাজি তৈরি ও মজুত করা হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে কারখানাটি বেআইনিভাবে চলছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসন ইতিমধ্যেই ঘটনার কারণ এবং কারখানার অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।
কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, বিস্ফোরক পদার্থ মজুতের ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়েছিল কি না এবং কারখানাটি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছিল কি না—এই সমস্ত বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ কারখানার মালিক-সহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি তাঁদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে।
মৃত ও আহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য
মর্মান্তিক এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে এবং গুরুতর আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন। আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারের জন্য ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘটনার তদন্ত শুরু, বাড়ছে আতঙ্ক
একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কীভাবে আগুন লাগল এবং ঠিক কী কারণে এত ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটল, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে কারখানায় কী ধরনের বিস্ফোরক ও বাজি মজুত ছিল এবং নিরাপত্তা বিধি আদৌ মানা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একদিকে চলছে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজ, অন্যদিকে চলছে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর বেআইনি ও অনিরাপদ বাজি কারখানাগুলির বিরুদ্ধে প্রশাসন আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয় কি না, এখন সেদিকেই নজর গোটা রাজ্যের
