সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ও যুদ্ধবিরোধী দিবস উপলক্ষে কোচবিহার শহরে বামপন্থী দলগুলির মিছিল। যুদ্ধের বদলে কাজ, খাদ্য, নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের দাবি তুলে ধরেন মিছিলকারীরা।
সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী শক্তি ও শান্তির দাবিতে কোচবিহারে বামপন্থীদের মিছিল
কোচবিহার, ডিস্ট্রিক্ট ডেস্ক : সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধে শান্তির বার্তা তুলে ধরে কোচবিহার শহরে মিছিল সংগঠিত করল বামপন্থী দলসমূহ। যুদ্ধের পরিবর্তে সাধারণ মানুষের কাজ, খাদ্য, নিরাপত্তা এবং সুষ্ঠু জীবনযাপনের দাবি সামনে রেখে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলা যুদ্ধ এবং যুদ্ধের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বামপন্থী দলসমূহ কোচবিহার সদরের উদ্যোগে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী এবং শান্তির পক্ষে, যুদ্ধ বিরোধী দিবস উপলক্ষে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এদিন কোচবিহার শহরের ঘাস বাজার এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও এলাকা পরিক্রমা করে।
ঘাস বাজার থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি কাছারি মোড়, হরিশপাল চৌপথি, হাসপাতাল চৌপথি এবং বাজার এলাকা হয়ে ফের হরিশপাল চৌপথিতে পৌঁছয়। এরপর সেখান থেকে মিছিলটি পুনরায় ঘাস বাজার এলাকায় এসে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা হাতে বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে যুদ্ধবিরোধী এবং শান্তির পক্ষে স্লোগান দেন।
যুদ্ধ নয়, সাধারণ মানুষের জন্য কাজ ও খাদ্যের দাবি
মিছিল থেকে বামপন্থী দলগুলির পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার বিভিন্ন সমস্যাকে সামনে তুলে ধরা হয়। তাঁদের বক্তব্য, যুদ্ধ ও অস্ত্র প্রতিযোগিতার পিছনে বিপুল অর্থ ব্যয় না করে সেই অর্থ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে ব্যবহার করা প্রয়োজন।
মিছিল থেকে জোরালোভাবে উঠে আসে—“যুদ্ধ নয়, কাজ চাই”, “যুদ্ধ নয়, খাদ্য চাই”, “যুদ্ধ নয়, নিরাপত্তা চাই”। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাপন যাতে সুষ্ঠুভাবে চলে, তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানানো হয়।
বক্তাদের বক্তব্য, যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের উপর। যুদ্ধের কারণে মানুষের জীবন ও জীবিকা বিপন্ন হয়, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট তৈরি হয় এবং নিরাপত্তাহীনতা বাড়ে। তাই যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক
মিছিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ছিল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ ও সংঘাতের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে একজোট করা। বামপন্থী দলগুলির পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্বের যেখানেই যুদ্ধের ষড়যন্ত্র চলছে, তার বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তির আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
তাঁদের দাবি, যুদ্ধ কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। বরং যুদ্ধের ফলে সাধারণ মানুষের জীবন আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তাই সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।
কোচবিহার শহরে মিছিল ঘিরে বার্তা
এদিনের মিছিল শুধু যুদ্ধবিরোধী কর্মসূচি হিসেবেই নয়, সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকার দাবিকেও সামনে নিয়ে আসে। কাজ, খাদ্য, নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণভাবে বেঁচে থাকার অধিকারকে কেন্দ্র করে একাধিক স্লোগান ওঠে মিছিল থেকে।
বামপন্থী নেতৃত্বের বক্তব্য, মানুষের স্বার্থে শান্তি প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধের পরিস্থিতি এবং যুদ্ধের সম্ভাবনার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ও যুদ্ধবিরোধী দিবস উপলক্ষে কোচবিহার শহরের এই মিছিলের মধ্য দিয়ে তাই একদিকে যেমন যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বার্তা দেওয়া হয়, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কাজ, খাদ্য, নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের দাবিও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।
