কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যালে গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টা পরেও প্রসব হয়নি
কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজে গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যুর পর প্রায় ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও প্রসব না করানোর অভিযোগ। ক্ষোভ পরিবারের।
কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যালে গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যুর অভিযোগ – ২৪ ঘণ্টা পরেও প্রসব হয়নি

কোচবিহার, ডিস্ট্রিক্ট ডেস্ক ১৩ : কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মাতৃমা বিভাগে গর্ভবতী মহিলার গর্ভেই সন্তানের মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল। অভিযোগ, গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যুর পর প্রায় ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মৃত সন্তানকে প্রসব করানো হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের মাতৃমা চত্বরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোগীর আত্মীয়-পরিজনেরা।
পরিবারের অভিযোগ, ওই গর্ভবতী মহিলাকে চিকিৎসার জন্য কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মাতৃমা বিভাগে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারকে জানানো হয়। কিন্তু এরপর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও প্রসবের ব্যবস্থা না হওয়ায় উদ্বেগ আরও বাড়তে থাকে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে।
পরিবারের দাবি, সন্তানের মৃত্যুর খবর জানার পর থেকেই তাঁরা দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, প্রায় ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও মৃত সন্তানকে প্রসব করানোর বিষয়ে প্রত্যাশিত তৎপরতা দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের একাধিকবার কথা কাটাকাটিও হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার জেরে মাতৃমা বিভাগের চত্বরে রোগীর আত্মীয়-পরিজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা যায়। তাঁদের অভিযোগ, চিকিৎসাধীন রোগীর ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হওয়ায় রোগীর শারীরিক পরিস্থিতি এবং পরিবারের মানসিক উদ্বেগ—দুই নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, তাঁরা কোনওভাবেই চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অযথা অভিযোগ তুলতে চাইছেন না। তবে তাঁদের মূল দাবি, কেন গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যুর পরও দীর্ঘ সময় ধরে প্রসব করানো হল না, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। একইসঙ্গে চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি বা ত্রুটি হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতাল চত্বরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। রোগীর পরিবারের অভিযোগ ঘিরে হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা ও প্রসূতি বিভাগের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
অন্যদিকে, এই বিষয়ে কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এমএসভিপির প্রতিক্রিয়া নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে পরিবারের তোলা অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য এই মুহূর্তে জানা সম্ভব হয়নি।
তবে গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনও জটিলতা তৈরি হয়েছিল কি না এবং কেন ২৪ ঘণ্টা পরেও মৃত সন্তান প্রসব হয়নি—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঘটনার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও তদন্ত বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয় কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে।
এদিকে, পরিবারের অভিযোগের সত্যতা এবং চিকিৎসায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখার দাবি উঠেছে। চিকিৎসকদের বক্তব্য এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা সামনে এলেই গোটা ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
