বিশকেকে ২৬তম SCO শীর্ষ সম্মেলন, নিরাপত্তা-সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় জোর
কিরগিজস্তানের বিশকেকে অনুষ্ঠিত হল SCO-র ২৬তম শীর্ষ সম্মেলন। নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা।
বিশকেকে ২৬তম SCO শীর্ষ সম্মেলন, নিরাপত্তা-সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও উন্নয়ন নিয়ে জোর আলোচনা

বিশকেক, কিরগিজস্তান, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক ৭ : আঞ্চলিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়নকে সামনে রেখে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত হল সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO)-এর ২৬তম শীর্ষ সম্মেলন। ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত দু’দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে অংশ নেন SCO-র সদস্য দেশগুলির শীর্ষ নেতৃত্ব। সম্মেলনের আলোচনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ মোকাবিলা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং টেকসই শান্তি ও উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
এবারের সম্মেলন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ SCO প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে সদস্য দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানো এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রনেতারা।
সম্মেলনে এক মঞ্চে বিশ্ব রাজনীতির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা
বিশকেকের এই শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনেতার উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-সহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানরা সম্মেলনে যোগ দেন।
SCO-র সদস্য দেশগুলির মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও আঞ্চলিক স্বার্থে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলি আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে সম্মেলনে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মতো বিষয়গুলিকে যৌথভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে।
সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ মোকাবিলায় বাড়তি গুরুত্ব
বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ইস্যু এবারের SCO সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ এবং বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলির মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যৌথ পদক্ষেপ আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। SCO-র অন্যতম প্রধান লক্ষ্যগুলির মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহযোগিতা থাকায় এবারের সম্মেলনেও সেই বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
টেকসই শান্তি ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা
SCO-র ২৫ বছরের যাত্রাকে সামনে রেখে সদস্য দেশগুলি আগামী দিনের সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা করেছে। টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয় উঠে এসেছে।
পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের পথ তৈরি করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
SCO মঞ্চে মোদির একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও অংশ নেন। বিশেষ করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে তাঁর বৈঠক বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই বৈঠকগুলিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও নেতাদের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
২৫ বছর পূর্তিতে নতুন দিশার সন্ধান
২০০১ সালে প্রতিষ্ঠার পর গত ২৫ বছরে SCO একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সহযোগিতা মঞ্চ হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা ও সহযোগিতা থেকে শুরু করে বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বিষয়ে সংগঠনটির ভূমিকা ক্রমশ বেড়েছে।
২৫ বছর পূর্তির এই বিশেষ সময়ে বিশকেক সম্মেলনে সংগঠনের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে SCO কীভাবে সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়াতে পারে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা কীভাবে শক্তিশালী করা যায় এবং টেকসই উন্নয়নের পথে কীভাবে এগোনো সম্ভব—এসব বিষয়ই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নজরকাড়া SCO সম্মেলন
ভারত, চিন, রাশিয়া ও ইরান-সহ গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতির কারণে বিশকেকের এই সম্মেলনের দিকে আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষ নজর ছিল। একদিকে যেমন নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার মতো অভিন্ন স্বার্থের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, অন্যদিকে সদস্য দেশগুলির মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে SCO-র ২৬তম শীর্ষ সম্মেলন শুধু সংগঠনের ২৫ বছরের সাফল্য উদ্যাপনের মঞ্চ নয়, বরং আগামী দিনে আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়নের নতুন দিশা নির্ধারণের ক্ষেত্র হিসেবেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
