কানপুরে প্রশিক্ষণ বিমান ভেঙে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, মৃত ২ পাইলট
কানপুরে গঙ্গা ব্যারেজের কাছে প্রশিক্ষণ বিমান ভেঙে মৃত্যু হল ট্রেনি পাইলট ও প্রশিক্ষক পাইলটের। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।
কানপুরে প্রশিক্ষণ বিমান ভেঙে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, মৃত্যু ট্রেনি পাইলট ও প্রশিক্ষকের
কানপুর, ন্যাশনাল ডেস্ক ১৬ : উত্তরপ্রদেশের কানপুরে প্রশিক্ষণ চলাকালীন ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা। বৃহস্পতিবার আচমকাই ভেঙে পড়ল একটি বেসরকারি সংস্থার প্রশিক্ষণ বিমান। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বিমানে থাকা একজন ট্রেনি পাইলট এবং এক প্রশিক্ষক পাইলটের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, একজন পাইলট ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। অন্যজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

গঙ্গা ব্যারেজের কাছে ভেঙে পড়ল বিমান
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে কানপুরের গঙ্গা ব্যারেজের কাছে নাত্থা পুরওয়া গ্রামের একটি মাঠে আচমকাই ভেঙে পড়ে প্রশিক্ষণ বিমানটি। বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার পর বিকট শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পুলিশকে খবর দেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি ছিল একটি টুইন-ইঞ্জিন ট্রেনিং এয়ারক্র্যাফ্ট। প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত ওই বিমানে দুর্ঘটনার সময় দু’জন ছিলেন—একজন প্রশিক্ষণরত পাইলট এবং অন্যজন প্রশিক্ষক।
বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার পর কার্যত দুমড়েমুচড়ে যায়। ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে। উদ্ধারকারী দল দ্রুত সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি আহতদের উদ্ধারের চেষ্টা করে।
নিহত দুই পাইলট
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন কর্নাটকের বাসিন্দা অভিষেক পূজারি এবং গুজরাটের বাসিন্দা সুমিত ভাটিয়া। তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন ট্রেনি পাইলট এবং অন্যজন প্রশিক্ষক পাইলট।
প্রশিক্ষক পাইলটের বিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতাও যথেষ্ট ছিল বলে জানা গিয়েছে। প্রায় ৩,০০০ ঘণ্টা বিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে প্রশিক্ষণের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
অল্পের জন্য বড় বিপদ এড়াল কানপুর
দুর্ঘটনাস্থলটি গঙ্গা ব্যারেজ সংলগ্ন এলাকায় এবং আশপাশে জনবসতিও রয়েছে। ফলে বিমানটি জনবসতিপূর্ণ এলাকার উপর ভেঙে পড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত বলে মনে করা হচ্ছে।
সৌভাগ্যবশত বিমানটি একটি মাঠে ভেঙে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে ঘটনায় দুই পাইলটের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কোন বিমান ছিল?
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি ছিল টেকনাম P2006T মডেলের একটি টুইন-ইঞ্জিন প্রশিক্ষণ বিমান। বিমানটি পরিচালনা করত ‘গর্গ অ্যাভিয়েশন’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থা।
দুর্ঘটনার আগে বিমানটি স্বাভাবিকভাবেই প্রশিক্ষণ উড়ানে ছিল কি না, কোনও যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল কি না কিংবা উড়ানের সময় কোনও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল কি না—তা এখনও স্পষ্ট নয়।
দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে
বিমান ভেঙে পড়ার প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে যান্ত্রিক ত্রুটি হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
পাশাপাশি দুর্ঘটনার আগে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকমতো হয়েছিল কি না, উড়ানের আগে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না এবং প্রশিক্ষণের সময় নির্ধারিত সমস্ত নিয়ম মেনে চলা হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
উড়ানের শেষ মুহূর্তে পাইলটদের সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা জানতে বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হতে পারে। তদন্তের রিপোর্ট সামনে এলেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
কানপুরে আগেও ঘটেছে প্রশিক্ষণ বিমানের দুর্ঘটনা
চলতি বছরেই কানপুরে প্রশিক্ষণ বিমান ঘিরে আরও একটি গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটেছিল। জুন মাসে চকেরি বিমানবন্দরে প্রশিক্ষণ শেষ করার পর বিমান থেকে নামার সময় চলন্ত প্রপেলারে আঘাত পান এক মহিলা ট্রেনি পাইলট। ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন।
সেই ঘটনার পর DGCA তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। তদন্ত চলাকালীন সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষককে প্রশিক্ষণের দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।
এরপর উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জেও একটি প্রশিক্ষণ বিমান জরুরি অবস্থায় মাঠে অবতরণ করেছিল। ওই ঘটনায় পাইলট নিরাপদে ছিলেন।
পরপর এমন ঘটনায় দেশের প্রশিক্ষণ বিমানগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রশিক্ষণ উড়ানের সময় নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। কানপুরের সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার তদন্তে সেই বিষয়গুলিও গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
