কোচবিহারে বিশেষ গঙ্গা আরতি, ৩০ আগস্ট বৈরাগী দিঘিতে
বারাণসী ও হরিদ্বারের আদলে ৩০ আগস্ট কোচবিহারের বৈরাগী দিঘিতে বিশেষ গঙ্গা আরতি। ৩১ আগস্ট সাগরদিঘিতেও হবে একই ধরনের আয়োজন।
কোচবিহারে বারাণসী-হরিদ্বারের আদলে বিশেষ গঙ্গা আরতি, ৩০ আগস্ট বৈরাগী দিঘিতে
কোচবিহার, ডিস্ট্রিক্ট ডেস্ক ২০ : ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবহে নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে কোচবিহার। আগামী ৩০ আগস্ট মদনমোহন বাড়ি সংলগ্ন বৈরাগী দিঘিতে বারাণসী ও হরিদ্বারের আদলে বিশেষ গঙ্গা আরতির আয়োজন করা হচ্ছে। কোচবিহার শহরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই এলাকায় এমন অভিনব ধর্মীয় আয়োজনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রস্তুতি।

আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বারাণসী ও হরিদ্বারের গঙ্গার ঘাটে যে ধরণের আচার-অনুষ্ঠান ও আরতির আয়োজন দেখা যায়, অনেকটা সেই আদলেই বৈরাগী দিঘির পাড়ে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশেষ আরতি। অনুষ্ঠানের জন্য দেহরাদূন থেকে পাঁচজন বিশেষ পণ্ডিতকে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের নেতৃত্বেই নির্দিষ্ট ধর্মীয় রীতি মেনে আরতির আয়োজন করা হবে।
অনুষ্ঠানকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন এবং পুরসভা কর্তৃপক্ষও প্রস্তুতির বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। দিঘির পাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড়, নিরাপত্তা, আলো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নিয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
শুধু ৩০ আগস্ট বৈরাগী দিঘিতেই নয়, ৩১ আগস্ট সাগরদিঘিতেও একই ধরনের বিশেষ আরতির আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে পরপর দুদিন কোচবিহার শহরের দুই গুরুত্বপূর্ণ দিঘি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে চলেছে।
কোচবিহারের রাজ আমলের ঐতিহ্য, মদনমোহন মন্দির এবং শহরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানের সঙ্গে ধর্মীয় আবহের দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। সেই ঐতিহ্যকে সামনে রেখে গঙ্গা আরতির মতো একটি বিশেষ আয়োজন শহরের পর্যটন ও সাংস্কৃতিক পরিবেশেও নতুন আকর্ষণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বারাণসী বা হরিদ্বারের মতো পরিবেশে আরতির দৃশ্য দেখতে বহু মানুষ বৈরাগী দিঘির পাড়ে ভিড় জমাতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয় নেতৃত্বের উদ্যোগের পাশাপাশি কোচবিহার পুরসভার সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গিয়েছে। তবে অনুষ্ঠানের সময়সূচি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য বিস্তারিত কর্মসূচি নিয়ে প্রশাসনের তরফে আরও তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।
সব মিলিয়ে, আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট কোচবিহারে ধর্মীয় আবহে বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে এই আরতি অনুষ্ঠান। বৈরাগী দিঘি থেকে সাগরদিঘি—পরপর দুদিনের এই আয়োজন কোচবিহারের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মানচিত্রে নতুন সংযোজন করতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
