১১ সেপ্টেম্বর হামলা: খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিচার শুরু ২০২৮ সালের জুনে
৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিচার ৫ জুন ২০২৮ থেকে গুয়ানতানামো বে সামরিক আদালতে শুরু হবে।
১১ সেপ্টেম্বর হামলা: খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিচার শুরু ২০২৮ সালের জুনে
ওয়াশিংটন, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক ১৫ : যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিচার শুরুর জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও বিচারপূর্ব শুনানি চলার পর আগামী ২০২৮ সালের ৫ জুন তাঁর বিচারকাজ শুরু করার দিন ধার্য করা হয়েছে।

কিউবার গুয়ানতানামো বে-তে অবস্থিত মার্কিন সামরিক আদালতে এই বিচার অনুষ্ঠিত হবে। বিমানবাহিনীর বিচারক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইকেল শ্রামা নতুন তারিখটি নির্ধারণ করেছেন। এর আগে মার্কিন প্রসিকিউটররা ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে বিচার শুরুর আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে মামলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন এবং প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক থাকায় সেই সময়সীমার মধ্যে বিচার শুরু করা সম্ভব হয়নি।
চার অভিযুক্তের বিচার
এই মামলায় খালিদ শেখ মোহাম্মদের পাশাপাশি আরও তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তাঁরা হলেন ওয়ালিদ বিন আত্তাস, মুস্তফা আল হাওসাওয়ি এবং আলি আব্দুল আজিজ আলি।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে অভিযুক্তদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ওই হামলায় ছিনতাই করা বিমান ব্যবহার করে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে আঘাত হানা হয়। হামলায় প্রায় তিন হাজার মানুষ প্রাণ হারান।
কেন এত বছরেও শুরু হয়নি বিচার?
এই মামলার বিচার দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকার অন্যতম কারণ হল অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় ব্যবহৃত নির্যাতনমূলক পদ্ধতি নিয়ে আইনি বিতর্ক। ২০০৩ সালে আটক হওয়ার পর খালিদ শেখ মোহাম্মদসহ কয়েকজনকে সিআইএর গোপন কারাগারে রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়। সেখানে তাঁদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।
নির্যাতনের মাধ্যমে পাওয়া জবানবন্দি বা অন্যান্য তথ্য সামরিক আদালতে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যাবে কি না, তা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে আইনি লড়াই চলছে। এই বিতর্কের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার মূল বিচার এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
মৃত্যুদণ্ড নিয়ে সমঝোতা ঘিরেও জটিলতা
বিচার প্রক্রিয়ায় আরও একটি বড় মোড় এসেছিল অভিযুক্তদের সঙ্গে মার্কিন প্রসিকিউশনের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে। এর আগে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার বিনিময়ে দোষ স্বীকারের একটি সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
তবে পরবর্তীতে সেই সমঝোতা নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আপত্তি ওঠে এবং প্রশাসনিক ও আইনি হস্তক্ষেপের ফলে তা বাতিল হয়ে যায়। ফলে মামলাটি আবারও দীর্ঘ বিচারপূর্ব প্রক্রিয়ায় ফিরে যায়।
২০২৮ সালের দিকে তাকিয়ে আদালত
এখন নতুন করে ৫ জুন ২০২৮ তারিখ নির্ধারণ করা হলেও তার আগেই মামলার একাধিক বিচারপূর্ব আইনি প্রশ্নের নিষ্পত্তি করতে হবে। বিশেষ করে নির্যাতনের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা, প্রমাণ উপস্থাপনের পদ্ধতি এবং অন্যান্য আইনি আপত্তি নিয়ে শুনানি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই মামলার বিচার কবে শেষ হবে, সেটিও এখনও অনিশ্চিত। তবে নতুন তারিখ নির্ধারণের ফলে বহু বছর ধরে ঝুলে থাকা ১১ সেপ্টেম্বর হামলা মামলার মূল বিচার শুরুর ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা সামনে এল।
গুয়ানতানামো বে-র এই সামরিক আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার দিকে তাই আন্তর্জাতিক মহলেরও নজর থাকবে। কারণ, ২০০১ সালের সেই হামলার পরিকল্পনা ও দায় নির্ধারণে এই মামলার রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
