লাতুরে সরকারি স্কুলে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ, অভিজিৎ দীপকের বিরুদ্ধে FIR
মহারাষ্ট্রের লাতুরে সরকারি স্কুলে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ ও শিক্ষক-কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অভিজিৎ দীপক ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে BNS-এর একাধিক ধারায় FIR।
সরকারি স্কুলে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ – মহারাষ্ট্রে ককরোচ অভিজিৎ দীপকের বিরুদ্ধে FIR
সিটি নিউজ বাংলা: মহারাষ্ট্রের লাতুর জেলায় একটি সরকারি স্কুলে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করে পঠনপাঠনে বাধা দেওয়া এবং শিক্ষকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিজিৎ দীপক ও তাঁর কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ

ঘটনাটি ঘটেছে লাতুর জেলার আউসার কাছে জাওয়ালি এলাকার একটি জেলা পরিষদ পরিচালিত সরকারি স্কুলে। অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে অভিজিৎ দীপক এবং তাঁর সহযোগীরা অনুমতি ছাড়াই স্কুলের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে পঠনপাঠন চলাকালীন ভিডিও রেকর্ডিং করা হয় এবং স্কুলের শিক্ষক ও কর্মীদের সঙ্গে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ।
‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানে স্কুল পরিদর্শন
অভিজিৎ দীপক ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানের অংশ হিসেবে ওই সরকারি স্কুলে গিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল স্কুলের পরিকাঠামো, পঠনপাঠনের পরিবেশ এবং শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে সরেজমিনে খোঁজ নেওয়া।
তবে অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যথাযথ অনুমতি না নিয়েই তাঁরা স্কুলের ভিতরে প্রবেশ করেন এবং ক্লাস চলাকালীন ভিডিও রেকর্ডিং শুরু করেন। বিষয়টি নিয়ে স্কুলের শিক্ষক ও কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের বচসা হয় বলে অভিযোগ।
শিক্ষকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ
অভিযোগ আরও গুরুতর হয়ে ওঠে যখন শিক্ষকদের সাসপেন্ড করার হুমকি দেওয়ার কথা সামনে আসে। স্কুলের কর্মীদের দাবি, তাঁদের সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং পঠনপাঠনের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে।
যদিও অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পর্কে কী বক্তব্য রয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। ফলে ঘটনাটির সম্পূর্ণ সত্যতা পুলিশি তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
একাধিক ধারায় মামলা
ঘটনার পর পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিজিৎ দীপক এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ১৩২, ৩২৯(৩), ৩৫১(২) এবং ৩৫৬(২) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
এই ধারাগুলির আওতায় সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা, অনধিকার প্রবেশ এবং হুমকি-সহ অভিযোগগুলির আইনি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার বিভিন্ন দিক তদন্ত করে দেখছে।
ভিডিও রেকর্ডিং ঘিরে বিতর্ক
স্কুলের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস চলাকালীন বাইরের ব্যক্তিদের প্রবেশ এবং ভিডিও রেকর্ডিং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন বা অভিযোগ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ও অনুমতির বিষয়টি কতটা মানা হয়েছিল, তা নিয়েও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন।
অন্যদিকে, ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানের মাধ্যমে সরকারি স্কুলের বাস্তব পরিস্থিতি সামনে আনার উদ্দেশ্য ছিল বলে সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য। কিন্তু সেই কর্মসূচি বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়েই এবার আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।
তদন্তে পুলিশের নজরে পুরো ঘটনা
পুলিশের তদন্তে এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে, স্কুলে ঠিক কী ঘটেছিল, কারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন, ক্লাস চলাকালীন কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং শিক্ষক-কর্মীদের সঙ্গে কী ধরনের কথাবার্তা হয়েছিল।
ঘটনাস্থলের ভিডিও বা অন্যান্য প্রমাণও তদন্তের অংশ হতে পারে।
এদিকে, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ এবং শিক্ষক-কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এফআইআর হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন। পুলিশি তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার পরই অভিযোগগুলির সত্যতা এবং ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
