শিমলা-কালকা টয় ট্রেনে ধস, ঝুলন্ত রেললাইন | ৪০০+ যাত্রী উদ্ধার
প্রবল বৃষ্টিতে শিমলা-কালকা টয় ট্রেন রুটে পাহাড় ধস। রেললাইনের নিচের মাটি সরে ট্র্যাক ঝুলন্ত হয়ে পড়ায় ৩৯১ যাত্রী ও ৪০ রেলকর্মীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। বাতিল ১০টি টয় ট্রেন।
ধসে বিপাকে শিমলা-কালকা টয় ট্রেন! ঝুলন্ত রেললাইন, নিরাপদে উদ্ধার ৪০০-র বেশি যাত্রী
শিমলা, ন্যাশনাল ডেস্ক : প্রবল বৃষ্টির জেরে ফের বিপর্যস্ত হিমাচল প্রদেশের ঐতিহ্যবাহী শিমলা-কালকা টয় ট্রেন পরিষেবা। পাহাড় ধসের কারণে রেললাইনের নিচের মাটি সরে গিয়ে ট্র্যাকের একটি অংশ ঝুলন্ত অবস্থায় চলে আসে। ফলে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এই ঐতিহ্যবাহী রেলপথে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে বড়সড় দুর্ঘটনার আগেই দ্রুত পদক্ষেপ করে আটকে থাকা যাত্রী ও রেলকর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

জানা গিয়েছে, প্রবল বৃষ্টির মধ্যে কোটি এবং ঘুম্মান স্টেশনের মধ্যবর্তী ৫৭ নম্বর ব্রিজের কাছে পাহাড় ধস নামে। ধসের জেরে রেললাইনের নিচের মাটি ব্যাপকভাবে সরে যায়। এর ফলে লাইনের একটি অংশ কার্যত মাটির সংযোগ হারিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় চলে আসে। পরিস্থিতি নজরে আসার পরই সংশ্লিষ্ট রেল কর্তৃপক্ষ ওই অংশে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়।
ঘটনার সময় ওই হেরিটেজ রুটে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাহাড়ি এলাকায় লাগাতার বৃষ্টির কারণে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে উত্তর রেলওয়ের তরফে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।
৪০০-র বেশি মানুষকে নিরাপদে সরানো হল
উত্তর রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটকে থাকা ৩৯১ জন যাত্রী এবং ৪০ জন রেলকর্মী, অর্থাৎ মোট চারশোরও বেশি মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাস এবং ছোট গাড়ির সাহায্যে তাঁদের গন্তব্যের দিকে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
রেল কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় রেললাইনের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় যে কোনও মুহূর্তে ট্র্যাকের আরও অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। সেই কারণে কোনও ঝুঁকি না নিয়ে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নিরাপত্তার কারণে বাতিল একাধিক টয় ট্রেন
বৃষ্টির পরিস্থিতি এবং রেললাইনের ক্ষয়ক্ষতির কথা মাথায় রেখে শিমলা-কালকা হেরিটেজ রুটে অন্তত ১০টি টয় ট্রেন পরিষেবা সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে রেল সূত্রে খবর।
শিমলা-কালকা রেলপথটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। পাহাড়ের গা বেয়ে আঁকাবাঁকা পথে চলা ছোট্ট টয় ট্রেনের যাত্রা দেখতে প্রতি বছর বহু পর্যটক এই রুটে ভিড় করেন। ইউনেস্কোর হেরিটেজ স্বীকৃত এই রেলপথে সামান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও রেল পরিষেবায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বৃষ্টিতে পাহাড়ি এলাকায় বাড়ছে বিপদের আশঙ্কা
হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে প্রবল বৃষ্টির জেরে একাধিক জায়গায় ধস ও রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। পাহাড়ি ঢালে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় ধসের প্রবণতা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে সড়ক ও রেল যোগাযোগের উপরও।
শিমলা-কালকা রেলপথে ধসের ঘটনায় ফের একবার স্পষ্ট হয়ে গেল, বর্ষার মরশুমে পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। রেললাইনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত করে পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তবে রেল পরিষেবা কবে থেকে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা পরিস্থিতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন পরিদর্শনের পরই চূড়ান্ত করা হবে। আপাতত যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে পরিষেবা বাতিল ও নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্তই বহাল রয়েছে।
