তেলেঙ্গানার সেকেন্দ্রাবাদ ক্যান্টনমেন্টে মাদ্রাজ রেজিমেন্টের অস্ত্রভাণ্ডার থেকে ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২১টি ম্যাগাজিন ও ১,৮০০-র বেশি তাজা কার্তুজ চুরির অভিযোগ। তদন্তে পুলিশ ও সেনাবাহিনী।
সেকেন্দ্রাবাদ ক্যান্টনমেন্টে থেকে চুরি ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৮০০-র বেশি তাজা কার্তুজ, তীব্র চাঞ্চল্য
সেকেন্দ্রাবাদ, ন্যাশনাল ডেস্ক : তেলেঙ্গানার সেকেন্দ্রাবাদ ক্যান্টনমেন্টের মতো উচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টিত সেনা এলাকায় অস্ত্র চুরির ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মাদ্রাজ রেজিমেন্টের অস্ত্রাগার থেকে একাধিক অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ তাজা কার্তুজ চুরি যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ৩১ আগস্ট সকালে সেনা কর্মকর্তাদের নজরে আসে চুরির বিষয়টি।

জানা গিয়েছে, অস্ত্রাগার থেকে মোট ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র চুরি হয়েছে। চুরি যাওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৪টি AK-203 অ্যাসল্ট রাইফেল এবং ১টি INSAS রাইফেল-সহ একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র। শুধু অস্ত্রই নয়, বিপুল পরিমাণ তাজা কার্তুজও অস্ত্রাগার থেকে উধাও হয়েছে বলে অভিযোগ।
অস্ত্রের পাশাপাশি উধাও বিপুল কার্তুজ
সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, চুরি যাওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১,৮০০ রাউন্ডেরও বেশি তাজা কার্তুজ। এর মধ্যে AK-203 রাইফেলের জন্য প্রায় ৭২০ রাউন্ড এবং পিস্তলের জন্য প্রায় ১,১২০ রাউন্ড কার্তুজ রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এছাড়াও একটি প্যাসিভ নাইট-ভিশন দূরবীন চুরি হয়েছে।
চুরি যাওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সামগ্রীর মোট আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা বলে জানা গিয়েছে। তবে অস্ত্র ও তাজা কার্তুজ চুরির বিষয়টি আর্থিক মূল্যের থেকেও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও কীভাবে চুরি?
সেকেন্দ্রাবাদ ক্যান্টনমেন্ট একটি উচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টিত এলাকা। জানা গিয়েছে, এই জোনে প্রবেশের জন্য চারটি নিরাপত্তা গেট রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশের উপর রয়েছে কঠোর নিয়ন্ত্রণ। এমন একটি এলাকায় অস্ত্রাগার থেকে একসঙ্গে এতগুলি অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ কার্তুজ কীভাবে বাইরে গেল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্তকারী আধিকারিকদের প্রাথমিক অনুমান, এই চুরির ঘটনায় ভেতরের কারও সুনির্দিষ্ট যোগসাজশ থাকতে পারে। কারণ অস্ত্রাগারে প্রবেশ, অস্ত্র ও কার্তুজ শনাক্ত করা এবং সেগুলি বাইরে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা পেরোতে হয়। ফলে এই ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।
স্কুলে অনলাইন ক্লাসের নির্দেশ
ঘটনার পর গোটা সেনা ছাউনি এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে তেলেঙ্গানা সরকার সেকেন্দ্রাবাদ ক্যান্টনমেন্ট এলাকার স্কুলগুলিকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অনলাইন ক্লাস চালানোর নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অস্ত্র ও কার্তুজ এখনও উদ্ধার না হওয়ায় প্রশাসনের তরফে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা আরও বাড়ানো হয়েছে। ক্যান্টনমেন্টের বিভিন্ন প্রবেশ ও বহির্গমন পথেও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
থানায় FIR, যৌথ তদন্তে পুলিশ ও সেনা গোয়েন্দারা
অস্ত্র চুরির ঘটনায় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বোলেরাম থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এরপরই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি সেনা গোয়েন্দারাও তদন্তে নেমেছে। বর্তমানে মালকাজগিরি পুলিশ কমিশনারেটের অধীনে পুলিশ ও সেনা গোয়েন্দারা যৌথভাবে গোটা ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছেন।
চুরি যাওয়া অস্ত্র ও কার্তুজ কোথায় রয়েছে, সেগুলি কাদের হাতে পৌঁছেছে এবং এই চুরির পিছনে কোনও বড় চক্র বা সংগঠিত নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
সেনা ক্যান্টনমেন্টের অস্ত্রাগার থেকে অত্যাধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল ও বিপুল পরিমাণ তাজা কার্তুজ চুরির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে AK-203-এর মতো আধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল কীভাবে নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে চুরি হল, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তদন্তকারীরা চুরি যাওয়া অস্ত্রের সম্ভাব্য গতিপথ, ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত ও প্রবেশাধিকার থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনও ফাঁক ছিল কি না—সব দিক খতিয়ে দেখছেন। একইসঙ্গে চুরি যাওয়া অস্ত্র ও কার্তুজ দ্রুত উদ্ধার করাই এখন তদন্তকারীদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
উচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টিত সেনা ছাউনির অস্ত্রাগার থেকে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ চুরির ঘটনায় তাই একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে এই ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে এত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও কার্তুজ চুরি করা হয়েছিল, সেই রহস্যের উত্তর মিলবে বলেই আশা করছে প্রশাসন।
