৪ মাস ধরে বেতন বন্ধ! কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে কোচবিহারের জেলাশাসকের দ্বারস্থ জলপথ সমবায় কর্মীরা
চার মাস ধরে বেতন না পাওয়ার অভিযোগ। বকেয়া বেতন মেটানো ও কোচবিহার জলপথ সমবায় পরিবহন সমিতির নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিলেন কর্মীরা
৪ মাস ধরে বেতন নেই! বকেয়া মেটানো ও কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে জেলাশাসকের দ্বারস্থ জলপথ সমবায় কর্মীরা
কোচবিহার, ডিস্ট্রিক্ট ডেস্ক: টানা চার মাস ধরে বেতন না পাওয়ার অভিযোগ তুলে এবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেন কোচবিহার জলপথ সমবায় পরিবহন সমিতির কর্মচারীরা। অবিলম্বে বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সমিতির কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে মঙ্গলবার কোচবিহারের জেলাশাসকের কাছে লিখিত দাবিপত্র জমা দেন তাঁরা।

কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমিতির সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। নতুন কমিটি গঠন না হওয়ায় আর্থিক ও প্রশাসনিক একাধিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে গত চার মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন সমিতির কর্মীরা।
তোরসা নদী পারাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
কোচবিহার শহরের ফাঁসিরঘাট এলাকায় তোরসা নদীর পারাপার পরিষেবার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছে কোচবিহার জলপথ সমবায় পরিবহন সমিতি। বিশেষ করে বর্ষার সময় নদীতে জলস্তর বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় নৌকা পারাপার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নদীর পরিস্থিতি ও স্থানীয় যাতায়াতের প্রয়োজন অনুযায়ী সমিতির কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে পারাপার পরিষেবার দায়িত্ব সামলে আসছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রেও এই পরিষেবার ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি কর্মীদের।
পুরনো কমিটি বাতিলের পর নতুন কমিটি গঠন হয়নি, অভিযোগ
কর্মচারীদের দাবি, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সমিতির পুরনো কমিটি বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু তারপর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও নতুন করে কোনও কমিটি গঠন করা হয়নি।
এর ফলে সমিতির স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ কর্মীদের। তাঁদের দাবি, কার্যকর কমিটির অভাবে সমিতির আর্থিক ও সাংগঠনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণেও সমস্যা তৈরি হয়েছে।
কর্মীদের অভিযোগ, তাঁরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করলেও গত চার মাস ধরে বেতন পাননি।
বেতন না পেয়ে আর্থিক সংকটে কর্মীরা
টানা চার মাস বেতন না পাওয়ায় কর্মচারীদের পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি। নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ, সংসার পরিচালনা এবং অন্যান্য আর্থিক দায় মেটাতে সমস্যার মুখে পড়ছেন তাঁরা।
কর্মচারীদের বক্তব্য, নদী পারাপারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত থেকে তাঁরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ মাসের পর মাস বেতন বন্ধ থাকায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
তাঁদের দাবি, অবিলম্বে চার মাসের বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে নিয়মিত বেতন প্রদান নিশ্চিত করা যায়, তার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
জেলাশাসকের কাছে লিখিত দাবিপত্র
এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার কোচবিহার জলপথ সমবায় পরিবহন সমিতির কর্মচারীরা একত্রিত হয়ে জেলাশাসকের কাছে তাঁদের দাবি তুলে ধরেন।
দাবিপত্রে মূলত দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—
প্রথমত, চার মাসের বকেয়া বেতন দ্রুত মিটিয়ে দিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সমিতির কমিটি পুনর্গঠন করে স্বাভাবিক প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম চালু করতে হবে।
কর্মীদের আশা, নতুন কমিটি গঠন হলে সমিতির কাজকর্ম আরও সুসংগঠিত হবে এবং কর্মীদের বেতন সংক্রান্ত সমস্যারও স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি হবে।
প্রশাসনের পদক্ষেপের অপেক্ষায় কর্মীরা
জেলাশাসকের কাছে লিখিত দাবিপত্র জমা দেওয়ার পর কর্মীরা আশাবাদী, জেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে।
তবে কর্মীদের চার মাসের বকেয়া বেতন কবে মিটবে এবং কোচবিহার জলপথ সমবায় পরিবহন সমিতির নতুন কমিটি কবে গঠন করা হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট সময়সীমা সামনে আসেনি।
ফলে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন সমিতির কর্মীরা। তাঁদের দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বেতন সমস্যার সমাধান এবং সমিতির স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার করা হোক।
